১ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য বিপদজনক ও ক্ষতিকর খাবার সমুহঃ

১ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য বিপদজনক ও ক্ষতিকর খাবার সমুহঃ

(আনুমানিক পড়ার সময় ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড)

একজন শিশুর জন্য মায়ের দুধের থেকে ভাল কোন খাবার হতে পারে না। মায়ের দুধে শিশু সম্পূর্ণ পুষ্টি পায়। এছাড়াও এতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে যা শিশুর শরীরে ইনফেকশন রোধে সাহায্য করে। তাই ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। অন্য কোন খাবার নয়। এমনকি পানিও না।

৬ মাস পরে শিশুকে মায়ের দুধে পাশাপাশি বাড়তি খাবারের প্রয়োজন পড়ে। তবে এসময় শিশুকে সব খাবার দেয়া যাবে না। শিশুকে খাওয়ানোর সময় খেয়াল করতে হবে যে খাবারগুলো শিশুর বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত কিনা? উপযুক্ত হলে দেখতে হবে খাবার সঠিক অবস্থায় বা আকারে শিশুকে দেয়া হচ্ছে কিনা?

বড়দের জন্য পুষ্টিকর কিছু খাবার রয়েছে যা শিশুর জন্য উপযুক্ত নয়। আবার এমন কিছু খাবার আছে যা শিশুরা পছন্দ করলেও শিশুর শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিছু কিছু খাবার আছে যা শিশুরা সহজে হজম করতে পারে না। এ ধরনের খাবার শিশুর স্বাস্থ্যহানি ঘটায় এবং শিশুর বিকাশে বাঁধা সৃষ্টি করে। বিপদজনক ও ক্ষতিকর খাবার সমুহঃ

গরুর দুধঃ

জন্মের প্রথম বছরে শিশুদের জন্য মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কোন দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। গরুর দুধে এমন খনিজ থাকে যা শিশুর কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এছাড়া গরুর দুধে মায়ের দুধের তুলনায় কম আয়রন এবং ফ্যাটি এসিড কম। আয়রন এবং ফ্যাটি এসিড শিশুর বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে কম বয়সে গরুর দুধ দেয়া হলে অ্যাসিডিটি ও অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। শিশু একটু বড় হলে ধীরে ধীরে গরুর দুধ খাওয়ানো শুরু করা যাবে। আরেকটি বিষয়, পাস্তুরাইজেসন করা না হলে দুধে অনেক ধরনের বিপদজনক ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই পাস্তুরাইজাসন ছাড়া দুধ শিশুদের দেয়া উচিত নয়।

ডিমঃ

ডিম কিছুটা অ্যালার্জি উৎপাদক খাবার। তবে তা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই পরিবারে যদি কারো ডিমে অ্যালার্জি থাকে সেক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। ডিমের সাদা অংশের পুষ্টিগুণ অনেক হলেও কিছু চিকিৎসক একে শিশু স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি মনে করেন। ১ বছর বয়সী শিশুকে ডিমের কুসুম খাওয়ালেও ডিমের সাদা অংশ আরও পর থেকে খাওয়াতে হবে।  

চিনাবাদাম এবং পিনাট বাটারঃ

চিনাবাদাম বা এ ধরনের কিছু বাদাম এবং বাদাম দিয়ে তৈরি পিনাট বাটারে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ভালো হয় এসকল খাবার শিশুর ১ বছর বয়সের পূর্বে পরিহার করা। যদি পরিবারে কারো বাদামে অ্যালার্জি থাকে তাহলে বেশ কিছুদিন পরে অথবা চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে শিশুকে বাদাম জাতীয় খাবার খেতে দিতে হবে।

মধুঃ

১ বছর পর্যন্ত শিশুর বটুলিজম হওয়ার আশংকা থাকে, আর মধু এই ছত্রাক বহন করে। শিশুর ১ বছর বয়স পূর্ণ হবার আগে মধু বর্জনীয়।

চিনিঃ

শিশুর খাবারে চিনি মেশানো ঠিক না। অতিরিক্ত চিনিতে শিশুর দাঁত ক্ষয় হতে পারে। তাই চিনির স্বাদের বিকল্প হিসেবে মিষ্টি জাতীয় ফল যেমনঃ কলা, আম ইত্যাদি দিতে হবে।

লবনঃ

শিশুর কিডনি লবন ও সোডিয়াম সহ্য করতে পারে না। লবনে রয়েছে প্রচুর সোডিয়াম যা শিশুর পাকস্থলীতে খাবার পরিপাকে সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই শিশুর খাবারে লবন না মেশানোই ভালো। তবে ১ বছর বয়সের পর হতে শিশুর খাবারে অল্প অল্প করে লবন মেশাতে পারেন।

চকলেটঃ

শিশুদের একটি প্রিয় খাবার চকলেট। তবে এতে থাকা কোকো শিশুদের হজম শক্তি নষ্ট এবং দাঁতের ক্ষতি করে। চকলেট থেকে অনেক শিশুর অ্যালার্জি দেখা দেয়। তাই যতটা সম্ভব শিশুকে চকলেট দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

কার্বনেটেড ড্রিংকসঃ

পেপসি, স্প্রাইট, কোকাকোলা জাতীয় কার্বোনেটেড ড্রিকসে প্রচুর চিনি, সোডিয়াম এবং আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার দেয়া থাকে যা শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এসকল ড্রিংকসে বিদ্যমান গ্যাসের জন্য কা কার্বনেশন ঘটে যা শিশুদের ছোট পাকস্থলীতে সমস্যা সৃষ্টি করে।

চা ও কফিঃ

চা, কফি, কোকোয়াতে থাকে ক্যাফেইন যা ক্যালসিয়াম হজমে বাঁধা দেয়। একারনে এসব পানীয় শিশুদের জন্য বর্জনীয়।

পপকর্ণঃ

অল্প বয়সী শিশুদের পপকর্ণ খাওয়ানো বিপদজনক। ভালোভাবে চিবিয়ে খেতে না পারায় গলায় আঁটকে যেতে পারে। তাই শিশু বড় হলে পপকর্ণ খেতে দেয়া উচিত।

চিংড়ি মাছঃ

সব বয়সী মানুষের শরীরে চিংড়ি মাছ অনেক বেশি অ্যালার্জি উৎপাদন করে থাকে। তাই শিশু কিছুটা বড় এবং সামর্থ্যবান না হওয়া পর্যন্ত চিংড়ি মাছ না খাওয়ানো ভালো।

সামুদ্রিক মাছঃ

টুনা, স্যামন, কোরাল ইত্যাদি সামুদ্রিক মাছে উচ্চ পরিমানে পারদ থাকে তাই এসকল মাছ শিশুদের খাওয়ানো ঠিক নয়।

কিশমিশঃ

কিশমিশে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বিদ্যমান থাকায় শিশুরা এই খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে পারে না। শিশু বড় হবার পরে কিশমিশ খেতে দিতে হবে।

আঙুর বা বেরি জাতীয় ফলঃ

আঙুর বা বেরি জাতীয় ফল খাওয়ার সময় শিশুর শ্বাসনালীতে আঁটকে যেতে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে।  তাই কিছুটা বড় হলে এ ধরনের ফল খেতে দেয়া উচিত।

টক জাতীয় ফলঃ

১ বছর বয়স পূর্ণ হবার পূর্বে টক ফল দেয়া উচিত না। কারণ টক জাতীয় ফলে এসিড থাকে যা বাচ্চারা হজম করতে পারে না।

স্ট্রবেরিঃ

স্ট্রবেরি ফলটি অ্যালার্জি উৎপাদক। তাই ১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে স্ট্রবেরি খাওয়ানো অনুচিত।

ফল সবজির বড় টুকরোঃ

শিশুকে সবজি ও ফলের বড় টুকরো দেয়া উচিত নয়। ভালোভাবে রান্না করে, ছোট টুকরো করে বা পিষে দিতে হবে।

Leave a Reply

×

Cart