গরমে শিশুর রোগ এবং সতর্কতাঃ

গরমে শিশুর রোগ এবং সতর্কতাঃ

(আনুমানিক পড়ার সময় ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড)

শিশু মাত্রই যত্নের প্রয়োজন তা হোক শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা কাল। গ্রীষ্মকাল শিশুদের জন্য বেশি কষ্টকর। এসময় শিশুদের প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। গরমে শিশুরা সহজে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এসময় কি কি রোগ হতে পারে এবং এসকল রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে মা ও বাবাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত।

ঠাণ্ডা ও সর্দিঃ

গরমে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা – সর্দির সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং তাকে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। এ সময় ঠাণ্ডা লেগে  শিশুর মাম্প্‌স হতে পারে।  মাম্প্‌স অল্পদিনে সেরে যায়। কিন্তু বেশিদিন হলে চিকিৎসকেরা সাধারনত শিশুকে এমএমআর ইঞ্জেকশন দিতে পরামর্শ দেন। মনে রাখবেন, সবসময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরমার্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

গরমে রোগপ্রতিরোধে আপনার আদরের ছোট্টমণির চুলের দিকে নজর দিতে হবে। গরমে চুলের গোড়া ঘেমে যায়, সঙ্গে ধুলাবালির আক্রমণ তো রয়েছেই। অনেক সময় অতিরিক্ত গরমে চুলের ত্বকে খুশকি বা ঘামাচি হয়। তাই গরমের শুরুতেই শিশুর চুল ছোট করে দিতে হবে। এতে চুলের গোড়া ঘেমে গেলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়, খুশকি বা ঘামাচি হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়।

জ্বরঃ

জ্বর কোন রোগ নয়, এটি রোগের উপসর্গ। অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুদের ভাইরাস জ্বরের প্রবণতা বেড়ে যায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা খুব দ্রুত বাড়ে। তাই ১০১-১০২ ডিগ্রী জ্বর হলে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই।

সংক্রমন, মাম্প্‌স, ঠাণ্ডাসহ নানা কারণে জ্বর হয়। তাই মূল রোগের চিকিৎসার মাধ্যমে জ্বরের চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে খেয়াল রাখতে হবে জ্বর যেন অতিরিক্ত বেড়ে না যায়। অতিরিক্ত জ্বরে মাথা ও গা মুছে দিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ দিতে হবে।

পেট খারাপঃ

গরমের সময় শিশুদের পেট খারাপ বা ডায়রিয়া হতে পারে। শিশুর পেট খারাপ হলে তাকে ঘন ঘন স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সেইসঙ্গে পানি এবং ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। একই সঙ্গে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। তিন দিনে অবস্থার উন্নতি না হলে বা তিন দিনের মধ্যে শিশুর শারীরিক অবস্থার অস্বাভাবিক অবনতি হলে ডাক্তার দেখাতে হবে।

লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুর পানিশূন্যতা না হয় এবং তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রস্রাব করা স্বাভাবিক। এছাড়া শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত গেলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ছয় মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ সময় কোনো অবস্থাতেই মায়ের দুধ বন্ধ করা যাবে না। সেইসঙ্গে পানি ও অন্যান্য নরম খাবারও দিতে হবে।

ত্বকের র‍্যাশ বা ফুসকুড়িঃ

শিশুদের ক্ষেত্রে এ সমস্যাটা বেশি হয়। সাধারণত ঘামাচি বা চামড়ার ওপরে লাল দানার মতো হয়। নিয়মিত গোসল করিয়ে পরিষ্কার জামা পরাতে হবে। গা শুকিয়ে গেলে পাউডার লাগাতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন পাউডার চামড়ার ভাঁজে জমে না থাকে।

অনেক সময় ডায়াপারের কারণেও হতে পারে তাই খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা ডায়াপার যেন শিশুর গায়ে বেশিক্ষণ না থাকে। ডায়াপার নষ্ট হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিন। তবে গরমের সময় বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় র‍্যাশ বেশি হয়ে গেলে ঘা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকেন পক্সঃ

এ সময়টায় শিশুদের চিকেন পক্স/ জলবসন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত ১-৫ বছরের শিশুদের বেশি হয়। তবে চিকেন পক্সের টিকা নেয়া থাকলে এ রোগটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়। এ অসুখের সময় শিশুর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাকে নরম সুতি কাপড় পরাতে হবে। বেশি করে পানি খাওয়াতে হবে। শিশু মায়ের দুধ পান করলে তা চালিয়ে যেতে হবে। তরল বা নরম জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।

নিউমোনিয়াঃ

সর্দি কাশি, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, কাপুনিসহ তীব্র জ্বর এবং বমি নিউমোনিয়ার লক্ষণ। তাই শিশুর শারীরিক অবস্থার অস্বাভাবিক অবনতি হলে বা এই সমস্যা তিন দিনের বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখবেন নিউমোনিয়া কখনো সরাসরি দেখা দেয় না । অন্যান্য রোগ বেড়ে গেলে নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। এজন্য শিশুর প্রতি খেয়াল রাখুন।

অন্যান্য টিপসঃ

১. গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান এবং ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।

২. বাইরে বের হলে শিশুর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সাথে রাখুন।

৩. ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিন। ঘাম শুকিয়ে ঠাণ্ডা লাগতে পারে।

৪. যতটা সম্ভব শিশুকে নরম খাবার খাওয়ান।

৫. ত্বকের র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি জাতীয় সমস্যা এড়িয়ে চলতে শিশুর ত্বক পরিষ্কার রাখুন।

৬. প্রচুর পানি খাওয়ান, যেন পানিশূন্যতা না হয় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

৭. সদ্যজাত শিশুর শরীর উষ্ণ রাখতে তাকে ঢেকে রাখুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘেমে না যায়।

৮. গরমের সময় মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড়ের প্রকোপ বাড়ে। এগুলো শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ঘর পোকামাকড় মুক্ত রাখুন।

সুস্থ থাকুক সকল শিশু।

Leave a Reply

×

Cart