গরমে শিশুর পোশাক-পরিচ্ছদ এবং ত্বকের যত্নঃ

গরমে শিশুর পোশাক-পরিচ্ছদ এবং ত্বকের যত্নঃ

(আনুমানিক পড়ার সময় ১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড)

গরমে শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এ সময় শিশুদের বড়দের তুলনায় বেশি ঘাম এবং মৌসুমজনিত অসুস্থতা দেখা দেয়। এই সময় শিশুর পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে মায়েদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। এতে করে শিশুর এসব সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব। তাই জানতে হবে, গরমে শিশুর যত্ন কিভাবে নিতে হবে এবং কোন কোন বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

গরমে শিশুর নিরাপদ পানি এবং খাওয়া-দাওয়া পাশাপাশি পোশাক-পরিচ্ছদ এবং ত্বকের যত্নে দিতে হবে সমান গুরুত্ব, অনুসরন করতে হবে বেশ কিছু নিয়ম কানুন। যেমনঃ

  • গরমের সময় শিশুর পোশাক হতে হবে আরামদায়ক।এসময় শিশুকে সুতি কাপড়ের নরম, পাতলা ও হাতা কাটা পোশাক পরানো উচিত। ডিসপোজেবল ন্যাপির পরিবর্তে সুতির পাতলা কাপড়ের ন্যাপি পরানো ভালো। কেননা ডিসপোজেবল ন্যাপিগুলো ঘাম ও তাপ শোষণ করতে পারে না তাই র‌্যাশ ও ঘামাচির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে শিশু যেন ভেজা কাপড়ে ঘুমিয়ে না থাকে। সেক্ষেত্রে ঠাণ্ডা লাগতে পারে।
  • সোনামণির পোশাকের রঙ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সাবধান হতে হবে বাবা-মাকে। গাঢ় কোনো রঙ পছন্দ করার চেয়ে সাদা, হালকা গোলাপি বা অন্যান্য উজ্জ্বল হালকা রঙের পোশাক বাছাই করুন। এ ধরনের পোশাক কম তাপ শোষণ করে তাই গরম কম অনুভূত হয়।
  • এই সময়ে বাচ্চাকে ফুলপ্যান্ট পরানো উচিত নয়। তাই ঢিলেঢালা হাফপ্যান্ট বাবুর জন্য নির্ধারণ করুন। এছাড়া ঢোলা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টও গরমে আরামদায়ক।
  • শিশুদের বেড়ানো বা কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জামা কাপড় পরাবেন না ও প্রসাধনী ব্যবহার করাবেন না। এতে শিশুদের অস্বস্তি বাড়ে। পোশাক ও সাজের সঙ্গে জুতার ব্যাপারটিও মাথায় রাখবেন। জুতা যেন আঁটসাঁট না হয়, আরামদায়ক জুতা পরানোর চেষ্টা করুন।
  • গরমে শিশুদের খুব দ্রুত র‌্যাশ ও ঘামাচি উঠে। তাই গ্রীষ্মকালে শিশুকে প্রতিদিনই গোসল করাতে হবে। প্রচণ্ড গরমে শিশুর শরীরে ঘাম জমে ঘামাচি সহ আরও অসুখ-বিসুখের শঙ্কা থাকে। গোসলের সময় শিশুর গায়ে সাবান দিয়ে শরীরের ভাঁজগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তবে শ্যাম্পু বেশি ব্যবহার না করাই ভালো, সপ্তাহে দুদিনই যথেষ্ট।
  • অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেক সময় শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশু অতিরিক্ত ঘেমে গেলে কাপড় পাল্টে শরীর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিন। শিশুকে পরিমিত ঠাণ্ডা ও শীতল জায়গায় রাখুন।
  • গরমে শিশুকে গোসলের পর তেল, লোশন প্রভৃতি প্রসাধনীর ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। শিশুকে গোসল করানোর পর শরীর শুকিয়ে আসলে গলা ও পায়ের ভাঁজে পাউডার ব্যবহার করুন। পাউডার ঘামাচি ওঠা রোধ করবে।
  • রোদে বের হতে হলে শিশুদের মাথায় ক্যাপ ও সানগ্লাস ব্যাবহার করুন, সানস্ক্রিন লোশন দিন, এতে করে রোদের তাপ সরাসরি গায়ে লাগবে না। শিশুদের এবং নিজেদের বাইরে বের হতে হলে সবসময় ছাতা ব্যবহার করবেন।
  • গরমে শিশু চুলের গোড়া ঘেমে যায়। এতে মাথায় খুশকি ও ঘামাচি বের হয়। তাই গরমের শুরুতেই শিশুর চুল ছোট করে দিতে হবে, এতে শিশু স্বস্তিবোধ করে।
  • শিশুর ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন র‌্যাশ জাতীয় সমস্যা না হয়। ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।
  • ঘামাচি ও গরমকালীন ফোঁড়া আকারে বড় হয়ে গেলে কিংবা পেকে গেলে তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

×

Cart