গরমে শিশুর জন্য নিরাপদ পানি এবং খাওয়া-দাওয়াঃ

গরমে শিশুর জন্য নিরাপদ পানি এবং খাওয়া-দাওয়াঃ

(আনুমানিক পড়ার সময় ১ মিনিট ৫০ সেকেন্ড)

গরমে শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এ সময় শিশুদের বড়দের তুলনায় বেশি ঘাম এবং মৌসুমজনিত অসুস্থতা দেখা দেয়। এই সময় শিশুর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে মায়েদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। এতে করে শিশুর এসব সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব। তাই জানতে হবে, গরমে শিশুর যত্ন কিভাবে নিতে হবে এবং কোন কোন বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

সঠিক খাদ্যাভাসই শিশুকে গরমের সমস্যা থেকে অর্ধেক সুরক্ষা দিতে পারে ।

  • শিশুর জন্য অবশ্যই ফুটানো অথবা ফিল্টারিং করা পানি ব্যবহার করবেন।  শিশুকে প্রচুর পরিমান পানি পান করাবেন। ঠাণ্ডা পানি পরিহার করুন। অতিরিক্ত গরমে শিশুর ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার দিকে নজর রাখুন। ডিহাইড্রেশনের লক্ষন দেখলে পানির পরিমাণ বাড়ান অথবা ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডিহাইড্রেশনের লক্ষন সমূহঃ ৬ ঘন্টার বেশি সময় যাবত প্রস্রাব-পায়খানা না করা; কাঁদলে চোখ দিয়ে পানি বের না হওয়া; অতিরিক্ত ঘুম হওয়া; অতিরিক্ত দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে যাওয়া; মাথার তালু দেবে যাওয়া, ঠোট ও চোখমুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং ফ্যাকাশে দেখানো।
  • আপনার সন্তান যদি শুধু বুকের দুধের উপর নির্ভরশীল থাকে তাহলে তাকে অল্প অল্প করে ঘনঘন বুকের দুধ খাওয়ান। কারণ গরমে ঘামানোর কারণে শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
  • যদি আপনার সন্তানকে কৌটার বা প্যাকেটজাত ফর্মুলা দুধ ও গরুর দুধ খাওয়ান তাহলে তা খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ে বানিয়ে দিতে হবে। খুব বেশি আগে থেকে দুধ বানিয়ে রাখা উচিত নয়। এতে পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যান্য খাবার তৈরিতেও এ বিষয়টি প্রযোজ্য।
  • শিশুর খাদ্যতালিকায় হালকা, পুষ্টিকর, টাটকা এবং সহজপ্রাপ্য খাবার রাখতে হবে। সেটা হতে পারে নরম খিচুড়ি বা সবজির স্যুপ। তবে পরিমিতভাবে মাছ-মাংসও থাকতে পারে।
  • শিশুকে মৌসুমি ফল বেশি খাওয়াতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ফলের রসও দেওয়া যেতে পারে, তবে তা বাসায় তৈরি করা হতে হবে। বাজারের প্যাকেটজাত ফলের রস শিশুর জন্য ক্ষতিকর কারণ সংরক্ষণের জন্য এতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
  • এসময় মুখে খাওয়ানোর স্যালাইন, ডাবের পানি , দই-চিঁড়া, সাগু, গ্লুকোজ ইত্যাদি তরল জাতীয় খাবার  দিতে পারেন।
  • শিশুর খাবার ঘরেই তৈরি করুন। বাইরের কেনা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ সময় ডায়রিয়ার প্রকোপ হতে পারে। ঘরে তৈরি টাটকা খাবার শিশুকে এ ধরনের ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করবে।
  • বাইরে যাওয়ার সময় ফলমূল এবং ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে যাওয়া ভালো। সে ক্ষেত্রে খাবার এবং পানি বহন করার জন্য ভালো মানের ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করতে হবে, যাতে খাবারের মান অক্ষুণ্ণ থাকে।
  • গরমে শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায় তাই এসময় শিশু খাবারে বৈচিত্র্য আনা যেতে পারে। তাছাড়া প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খেলে একঘেয়েমি আসতে পারে আর এতে শিশুর খাওয়ায় অরুচিও আসতে পারে। । শিশুদের ‘ফিঙ্গার ফুড’ যেমন- গাজরের টুকরা, মটরশুঁটি, গোল করে কাটা আলু ইত্যাদি খেতে দিতে হবে। এতে করে শিশুর হাতে তুলে খাওয়ার অভ্যাস হবে ও খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। দুধ ও ডিমের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খেতে দিতে হবে।

Leave a Reply

×

Cart