কলিক বেবিঃ

কলিক বেবিঃ

শিশুর মনের ভাব এবং শরীরের সমস্যা প্রকাশের মাধ্যম তার কান্না। সাধারণত কোন কারণ ব্যতীত শিশু কান্না করে না। তবে ১৫-২০ ভাগ শিশু ২-৩ সপ্তাহ বয়স থেকে ১২ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত সময়ে কোন নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই কান্না করে থাকে। কিছু সুস্থ শিশু দিনের বেশির ভাগ সময় স্বাভাবিক থাকলেও প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কান্না শুরু করে দেয়। চিকিৎসার ভাষায় একে ‘ইনফ্যান্ট কলিক’ এবং এধরনের শিশুদের কলিক বেবি বলা হয়। 

লক্ষণ: 

অনেক মা বাবাই শিশুর কান্নার কারণ বুঝতে না পেরে শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। যখন কান্নার কোন নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না তখন মা বাবা মানসিক চাপে অস্থির হয়ে পরেন। নতুন মা বাবার ক্ষেত্রে এটা বেশি হয়। লক্ষণসমূহ জানা থাকলে অস্থিরতা কমতে পারে। লক্ষণসমূহঃ 

  • বিকেল-সন্ধ্যায় কারণ ছাড়া কান্না করা
  • হাত-পা ছুড়ে কান্না করা
  • খাবার দিলে কান্না করা
  • কারণ ছাড়া বাচ্চা যদি দিনে তিন ঘণ্টার বেশি, সপ্তাহে তিন থেকে চার দিনের বেশি এবং টানা তিন থেকে চার সপ্তাহ বা তার বেশি কান্না করে তবে শিশু হয়ত কলিক।

কেন হয়?

কলিক এর কারণ অজানা। তবে হজমের সমস্যা, পেটে গ্যাস ফর্ম করা, মায়ের খাদ্যাভ্যাস, খাবারে (ল্যাকটোজ) এলার্জি, হরমনের ভারসাম্যহীনতা, অন্ত্রের সংকোচন এবং পরিবেশগত কারনে কলিক হতে পারে।

কি করবেন?

কলিক বেবি পালনের ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা অনুসরণ করা যেতে পারে যেমনঃ শিশুকে সময় দিন, শিশুর ডাকে বা কান্নায় সারা দিন, বেশি কোলে রাখুন, মাসাজ করুন, লো-ল্যাকটোজ দুধ খাওয়ান, ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখুন এবং শিশুর ও মায়ের সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন। 

অভিভাবকেরা ধৈর্য ধারন করুন। নিজেকে শান্ত রাখুন। পরস্পরকে সহযোগিতা করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

পরিশেষে বলা যায়,  কলিক এর জন্য ভয় এর কোন কারণ নেই কারণ ৬০ ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে তা ৩ মাসের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। ৯০ ভাগ বাচ্চা ৪ মাস এর মধ্যে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠে। বাকিদের এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় লাগতে পারে। তবে এতে সাধারণত কোন সমস্যা হয় না।

Leave a Reply

×

Cart