আপনার সন্তানের ভবিষ্যত সাফল্য নিশ্চিত করার ৫ টি উপায়

আপনার সন্তানের ভবিষ্যত সাফল্য নিশ্চিত করার ৫ টি উপায়

(আনুমানিক পড়ার সময় ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড)   

প্যারেন্টিংকে বিশ্বের অন্যতম কঠিন কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। প্যারেন্টিং নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তবে এমন অনেক উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে পিতামাতারা তাদের বাচ্চাদের মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজগুলোর মধ্যেই ব্যতিক্রমী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। নিচের পাঁচটি সহজ, কার্যকর এবং বিজ্ঞান-সমর্থিত টিপস আপনার বাচ্চাকে ভবিষ্যত সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে।

১. শিশুর কথোপকথনকে উৎসাহ এবং গুরুত্ব দিনঃ 

শিশুরা যে শব্দ এবং অঙ্গভঙ্গিগুলি করে সেগুলি সবসময় খুব স্বাভাবিক না হলেও এগুলোই তাদের যোগাযোগের একমাত্র রূপ। শিশু বিকাশের বিজ্ঞানীরা বলেন, মা-বাবার উচিত শিশুর কথোপকথনকে উৎসাহ এবং প্রাধান্য দেওয়া। পিতামাতার উচিত শিশুর শব্দ, ইশারা এবং কাজে সাড়া দেওয়া। সারাদিন শিশুর সাথে সংযুক্ত থাকা। একটি শিশু যে শব্দগুলো শুনে সেই শব্দগুলোই ২ বছর বয়সে তাদের শব্দভান্ডারে যোগ হয় এবং পরবর্তীতে শিশুর ভাষা তথা শিক্ষার স্তর নির্ধারণ করে। শিশুর কথোপকথনকে গুরুত্ব সহকারে নিন এবং তাকে উত্সাহ দিন।

২. আপনার শিশুর ভাষার চর্চা অব্যহত রাখতে তাকে নিয়মিত পড়ে শোনানঃ

বাচ্চারা হয়ত এখনও কথা বলছে বা পড়ছে না তবে তারা জন্মগতভাবে শেখার জন্য উন্মুখ। এমনকি ৩ মাস বয়সেও তারা বিশ্বের প্রতিটি ভাষায় ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ আলাদা করতে পারে। যতবার আপনি আপনার শিশুর কাছে উচ্চস্বরে পড়বেন, আপনার শিশুর ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পড়ার সময় বইয়ের ছবিগুলো বাচ্চাকে দেখান এবং গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। যেমনঃ “তুমি কি পরেছে?”, “সেখানে কয়জন আছে?” ইত্যাদি। এই ধরণের প্রশ্ন আপনার সন্তানের ভাষার দক্ষতা বাড়াবে। বাচ্চাদেরকে বই পড়ে শোনালে শুধুমাত্র শিশুকে নতুন শব্দ শেখায় না সাথে সাথে বই এবং পড়ার প্রতি শিশুর ভালবাসা তৈরি করে।

৩. প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা এবং ঘটনা থেকে শিশুকে শেখানঃ

বাচ্চাদের জন্য, জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাই শিক্ষা। শিশুর ভাষাকে উদ্দীপ্ত করতে আপনি কী করছেন তা বর্ণনা করুন। গণিত শেখানোর জন্য কাপড় গণনা এবং বাছাই করুন। শিশুর বৈজ্ঞানিক চিন্তার প্রসারের জন্য খাবারের উপাদান, আকার, রং ইত্যাদি নিয়ে কথা বলুন।   প্রচারের জন্য খাদ্য উপাদান এবং টেক্সচারের সাথে খেলুন। ইমোশনাল ইণ্টিলিজেন্স তৈরি করতে ভিন্ন ভিন্ন আবেগ মিশ্রিত মুখভঙ্গি করুন।

৪. খেলাধুলোকে গুরুত্ব দিনঃ

ছোট বাচ্চারা সারাক্ষণ শিখছে। যখন তারা খেলে, তখন তারা জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে। যেমন খুশি তেমন সাজো ধরনের খেলা তাদের রূপ বদলের আনন্দ দেয় এবং অন্যের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা বোঝার সুযোগ করে দেয়। যখন শিশুরা অন্যদের সাথে খেলে, তখন তারা আপস করতে এবং অংশ নিতে শিখে। যখন শিশুরা নতুন কল্পনা করে, তখন ছোট বাচ্চারা সমস্যার সমাধান এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে শিখে। যদিও খেলাকে শুধু আনন্দের মাধ্যম হিসেবে অনেকে মনে করেন কিন্তু খেলা শিশুর বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। খেলাকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করুন কারণ খেলা একটি শক্তিশালী শিক্ষা। সন্তানের সামনে আপনার ডিজিটাল ডিভাইস (মোবাইল, কম্পিউটার) ব্যাবহার করা এড়িয়ে চলুন। গবেষণা দেখা যায় যে, এতে শিশুরা নিজেকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

৫. শিশুরা দেখে শিখেঃ

বাচ্চারা অনুকরণপ্রিয়। আপনার সন্তান আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পর্যবেক্ষণ করে। আপনি অন্যের সাথে কীভাবে আচরণ করেন বা কোনও ঘটনার প্রতি আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া করেন সেগুলো শিশুরা মনোযোগ সহকারে দেখে এবং সেগুলো তার নিজের জীবনে গ্রহন করে। আপনি আপনার বাচ্চার চারপাশে যেভাবে আচরণ করেন সেটিকে তারা নিজেদের আচরণে আকার দেয়।

আপনার দৈনিক কর্মকাণ্ডে এই পাঁচটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করুন। দেখবেন এই বিষয়গুলো আপনার সন্তানের ভবিষ্যত সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে। আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের সাফল্যের জন্য সহায়তা করা কোন বিশেষ সরঞ্জাম বা অর্থ খরচের উপর নির্ভর করে না। এটি পুরোটাই নির্ভর করে আপনার সন্তানকে দেয়া সময়, শিক্ষা এবং সর্বোপরি আপনার সান্নিধ্যের উপর।

সুত্র – লেখাঃ ইউনিসেফ ও অন্যান্য এবং ছবিঃ ইমেজেসবাজার।

Leave a Reply

×

Cart