সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বাবার ভূমিকাঃ

সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বাবার ভূমিকাঃ

(আনুমানিক পড়ার সময় ২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড)

সন্তানের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অবশ্যই মা। জন্মের পর শিশু মায়ের সান্নিধ্যই বেশি পায়। কিন্তু সন্তান বড় হয়ে একজন পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার জন্য বাবার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আমাদের দেশে সাধারনত বাবার কাজ বলতে পরিবারের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা প্রদান করাকে বোঝানো হয়। বাবার কাজ সন্তানের ভরণপোষণ, লেখাপড়া এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের যোগান নিশ্চিত করা। সন্তানে সাথে বাবার সম্পর্ক দৃঢ় করতে এগুলো কোন  ভুমিকা রাখে না। শিশুর যত্নে বাবার অংশগ্রহণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাবার সান্নিধ্য না পাওয়া শিশুদের তুলনায়, পিতার সান্নিধ্যে বেড়ে উঠা শিশুদের বিকাশ অনেক বেশি হয়। যেসকল শিশু জন্মের পর থেকে বাবার উপস্থিতি এবং সহযোগিতা বেশি পায় সেসকল শিশু অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, সাহসী, সুখী এবং মেধাবী হয়ে থাকে।    

সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বাবা হিসেবে আপনি যে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিবেনঃ

  • সন্তানের বড় হয়ার ক্ষেত্রে আপনার ভুমিকাটা যেন শুধু অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ এবং শাসন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। সন্তানের কাছে পৌঁছানোর সেরা মাধ্যম হলো তাকে সময় দেয়া, তার সাথে ছোটছোট কাজ করা। এক্ষেত্রে মায়ের পাশাপাশি বাবা হিসেবে সন্তানকে খাওয়ানো, ঘুমানো, পড়ালেখা এবং খেলাধুলায় সময় দিন।
  • খুব ব্যস্ত থাকলেও সন্তানকে দিনে অন্তত আধা ঘণ্টা ‘ফাদারিং’ টাইম দিন। বর্তমান সময়ে সন্তানের ক্ষেত্রে বাবাদের দায়িত্বশীলতা, লালনপালন ইত্যাদি বিষয়গুলোকে ফাদারিং বলে। একজন বাবা তার সন্তানের ক্ষেত্রে কতটা দায়িত্বশীল তা জানার জন্য রয়েছে ‘ফাদারিং ইনডেক্স’ বা ‘পিতা সূচক’। বর্তমানে উন্নত দেশে ‘ফাদারিং’ এর সূচনা হয়েছে এবং এর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
  • যে কাজ গুলো বাচ্চার মায়ের থেকে আপনি ভালো পারেন, বাচ্চা ছোট থাকতেই সেগুলো বাচ্চাকে শেখানোর দায়িত্ব নিন। খেলাধুলা, পড়ালেখা এবং গল্প করা ইত্যাদি আপনাদের সম্পর্ক দৃঢ় করে তুলবে।
  • বাচ্চার সামনে কখনও স্ত্রীর সাথে ঝগড়া বা খারাপ ব্যবহার করবেন না। স্ত্রী যদি কোন কারণে রেগে যায়, আপনি শান্ত থাকুন। মা – বাবার ঝগড়া বা খারাপ ব্যবহার দেখলে শিশু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে। এতে করে বাবা-মা সন্তানের চোখে ছোট হয়ে যায়। আপনার মার্জিত ব্যবহার সন্তানের চরিত্রকেও প্রভাবিত করবে।
  • কাজে ব্যস্ত থাকলেও সন্তানের উপস্থিতি বা দাবি কখনও এড়িয়ে যাবেন না। কোন কিছু চাইলে তার কথাটা রাখার চেষ্টা করুন। যদি তা না পারেন তাহলে বুঝিয়ে বলুন এবং পরবর্তীতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটা দিন। সন্তানের সকল যৌক্তিক দাবি পূরণ করুন।
  • ছোটছোট কাজের ক্ষেত্রে আপনার সাথে সন্তানকে অংশগ্রহণ করতে দিন। এক্ষেত্রে সে সকল কাজে অংশগ্রহণের উৎসাহ পাবে এবং আপনার সাথে সম্পর্ক ভালো হবে।
  • বাচ্চাদের বিভিন্ন শখ এবং ইন্টারেস্টে উৎসাহ দিন। ভালো কাজে প্রশংসা করুন। খারাপ কাজ করলে বুঝিয়ে বলুন।
  • আপনার ছেলেবেলার গল্পগুলো বাচ্চাদের শোনান, এক্ষেত্রে তারা আপনার গল্প উপভোগ করবে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। 
  • সামাজিক মূল্যবোধ, কালচার ও নিয়ম শিখতে সাহায্য করুন। বাচ্চাদের সাথে কোয়ালিটি টাইম ব্যয় করুন। আপনারও ভালো সময় কাটবে।
  • সন্তানের ছোটছোট কাজে সাহায্য করুন, এক্ষেত্রে তারা বুঝতে পারবে আপনি সবসময় তাদের সাথে আছেন এবং যে কোন সমস্যায় আপনি তাদের সাথে থাকবেন। ওদের জীবনে আপনার গুরুত্ব বুঝেই ওরা আপনাকে ভালবাসবে ও সম্মান দিবে।
  • কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন, আপনি যদি রাতের বেলা  ব্রাশ করে এবং ফ্রেস হয়ে শুতে যান, আপনার সন্তানকেও তা করতে বলুন। শিশুরা বাবাকে অনুসরণ করে। তাই তাকে বই পড়ার মতো ভালো অভ্যাস গড়াতে হলে আপনাকেও বই পড়তে হবে।

যদিও এটা খু্ব আশার কথা যে, বর্তমানে কিছু বাবারা পরিবারে সন্তান লালন পালনে সরাসরি অবদান রাখছেন। অনেক বাবাই শিশুর খাদ্য থেকে শুরু করে সার্বিক যত্ন করে থাকেন। সময় বদলে যাচ্ছে, আপনাকেও বদলাতে হবে। পরিবারের দায়িত্বের পাশাপাশি শিশুর যত্নেও বাবা হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহন থাকতে হবে। এভাবেই বাবা হিসেবে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে হবে।

‘বাবা’ রা পরিবার ও সন্তানের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হন। ভালো রাখুন। ভালো থাকুন।

Leave a Reply

×

Cart