রোজাদার মা কী শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারবেন?

রোজাদার মা কী শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারবেন?

(আনুমানিক পড়ার সময় ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ড)  

অনেক মা মনে করেন, রোজা থাকা অবস্থায় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুরা দুধ কম পায়, পুষ্টিহীনতায় ভুগতে পারে অথবা মায়ের নিজের শরীর অসুস্থ হতে পারে ইত্যাদি। এ কারণে, যে মায়েদের শিশুরা বুকের দুধ পান করে সেসকল মা’দের বেশ চিন্তিত থাকতে দেখা যায়।

শিশু যদি শুধুমাত্র বুকের দুধ পান করে থাকে, সেক্ষেত্রে মায়ের ওজন কমতে পারে, শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হতে পারে এবং পানিশুন্যতা হতে পারে তবে বাচ্চার বৃদ্ধি বা ওজনের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ রোজা রাখলেও মায়ের শরীর স্বাভাবিক দুধ উৎপন্ন করে। মায়ের দুধের পরিমাণ এক থাকলেও দুধের উপাদান ও গঠনগত কিছু পরিবর্তন হয়। এমন পরিবর্তনের সাথে শিশু সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

রোজাদার মায়ের অতিরিক্ত দুর্বলতা, পানিশূন্যতা যেমন অতিরিক্ত পিপাসা পাওয়া, গাঢ় বর্ণের প্রস্রাব হওয়া, মাথা ঘোরা, ঠোট ও চোখ- মুখ শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে রোযা রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। এসময় স্যালাইন পান করতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে। যদি তার পরেও খারাপ লাগতে থাকে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দুধ প্রদানকারী নারীর রোজা রাখার ব্যাপারে ধর্মীয় শিথিলতা রয়েছে।

হাদিসে বর্ণনা আছে, “আল্লাহ্‌ গর্ভবতী ও বাচ্চাকে বুকের দুধ দেন এমন মহিলাদের রোজা মওকুফ করেছেন।”

                                                   সুত্র- সুনান ইবনে মাযাহ, ভলিঃ ২, বুক অব ফাস্টিং, হাদিস ১৬৬৭

বিশ্ববিখ্যাত আলেম শাইখ উছাইমীন বলেছেন, দুগ্ধদানকারী নারী খাবারের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়তে পারে। যেমন, গ্রীষ্মের দীর্ঘতর ও উত্তপ্ত দিনগুলোতে মা তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর জন্য রোজা ছেড়ে দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এমতাবস্থায় আমরা সে নারীকে বলব: আপনি রোজা ছেড়ে দিন। পরবর্তীতে আপনি এ রোজাগুলো কাযা পালন করবেন।

                                                                                       সুত্র- ফাতাওয়াস সিয়াম পৃষ্ঠা-১৬২

সতর্কতা: আপনার শিশু যদি প্রতি ৪-৬ ঘন্টা পর পর প্রস্রাব করে তাহলে বুঝবেন সে পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। যদি বাচ্চার প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, বাচ্চার ওজন কমে যায়, বাচ্চার ঠিকমত দুধ পাচ্ছে না বলে মনে হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকুন।

সুতরাং, দুগ্ধদানকারী মা চাইলে রোজা রাখতে পারবে, তবে পূর্বশর্ত হচ্ছে তার সুস্থতা এবং শিশুর পরিপূর্ণ পুষ্টি নিশ্চিতকরন।  

Leave a Reply

×

Cart