গর্ভবতী মা কি রোজা রাখতে পারবে?

গর্ভবতী মা কি রোজা রাখতে পারবে?

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখা যাবে। তবে তা নির্ভর করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং গর্ভকালীন সময়ের উপর। এ সময়ে রোজা রাখা কষ্টকর। শারীরিক কারণেই রমজানে গর্ভবতীর রোজা রাখার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। খেয়াল রাখতে হবে রোজা রাখতে গিয়ে মা ও শিশুর কোনো প্রকার ক্ষতি যেন না হয়।

ইসলামের নিয়মানুসারে, পবিত্র রমযান মাসে আল্লাহ্‌ তালার নির্দেশে গর্ভবতী মায়েদের রোজা রাখার উপর শিথিলতার কথা উল্লেখ আছে। গর্ভবতী মায়েরা রোজা রাখতে পারবে, তবে মা বা শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে রোজা বাদ দেয়া যাবে।

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস অনেকেরই বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরানো বা খাবারে অরুচি থাকে। ফলে খেতে না পারা এবং বার বার বমির কারণে অনেকেরই ওজন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস একজন গর্ভবতী নারীর রোজা না রাখাই ভালো। তাছাড়া গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস গর্ভস্থ শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এ সময় মায়ের পুষ্টি ও গর্ভস্থ শিশুকে গ্লুকোজসহ অন্যান্য পুষ্টির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

গর্ভাবস্থার মাঝের তিন মাসে মায়েরা বেশ ভালো বোধ করেন। এসময় সাধারণত তাদের বমি হয় না এবং খেতে কোনো অসুবিধা দেখা দেয় না। তাই অন্য কোনো অসুস্থতা না থাকলে, এই সময়ে গর্ভবতী মা রোজা রাখতে পারেন। তবে তার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

শেষের তিন মাসে গর্ভস্থ শিশুসহ জরায়ুর উচ্চতা বাড়ার কারণে গর্ভবতী মায়ের অসুবিধা আরো একটু বেড়ে যেতে পারে। এ সময় রোজা না রাখাই ভাল।

গর্ভবতীর রোজা রাখার ক্ষেত্রে অন্যান্য যেসকল নিয়ম মেনে চলা জরুরীঃ 

১. গর্ভকালীন যাদের ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড প্রেশার থাকে তাদের জন্য রোজা না থাকাটাই ভালো।

২. আবহাওয়ার জন্য গর্ভবতীর ত্বকের সমস্যা হতে পারে। প্রতিদিন গোসল করে ত্বকের সমস্যা সমাধান করা যায়।

৩. স্বাভাবিকের চাইতে একটু বেশি সময় বিশ্রাম নিতে হবে।

৪. রাতের খাবার পর বেশি রাত জাগবেন না। সময় মতো ঘুমিয়ে যান। কারণ এ সময় পর্যাপ্ত ঘুম খুবই দরকার।

৫. শরীরের ওজন সবসময় পরীক্ষা করুন।

৬. দুশ্চিন্তা ও চাপ মুক্ত থাকুন।

৭. ভারী কিছু বহন করা, অনেক দূর হাঁটার পথ এবং সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা পরিহার করুন।

৮. মনে রাখবেন, রোজা পালনের কারণে পানি পান হচ্ছে না, তাই লক্ষ্য রাখুন যেন এমন পরিশ্রম না হয় যাতে ঘামের সাথে শরীর হতে অধিক পানি বেরিয়ে না যায়। তবে স্বাভাবিক সব কাজকর্ম করতে পারেন।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া উচিতঃ

১. যদি শিশুর নড়াচড়া অনুভব না করেন।

২. আপনার তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন যেমনটা মাসিকের সময় হয়ে থাকে।

৩. অনেক বিশ্রাম নেয়ার পর ও আপনি যদি ঘুম ঘুম ভাব বা দুর্বলতা অনুভব করেন।

৪. যদি আপনি প্রচণ্ড মাথাব্যথা, গা গুলিয়ে উঠা এবং বমি হতে থাকে।

৫. হালকা জ্বর, কাশি ও অন্য যে কোনো অসুবিধায় অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

৬. যদি আপনার ও গর্ভের শিশুর ওজন না বাড়ে। 

৭. যদি খুব ঘন ও কম প্রস্রাব হয়।

৮. যদি বিকট গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হয়। সেক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশান এর সম্ভাবনা থাকে যা বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর।

৯. রোজা থাকাকালীন কোন রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

১০. রোজার সময় চিকিৎসকের দেয়া ওষুধ গুলো সময়মত খাওয়া হয় না। তাই আগে থেকেই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ওষুধ খাবার পরিবর্তিত নিয়ম জেনে নিন।

Leave a Reply

×

Cart