গর্ভবতীর সেহেরি, ইফতার এবং রাতে খাবার কেমন হওয়া উচিত?

গর্ভবতীর সেহেরি, ইফতার এবং রাতে খাবার কেমন হওয়া উচিত?

একজন গর্ভবতী মায়ের সাধারণত ৬ বার খেতে হয়। তবে রোজার সময় খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হয়। এ ক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়েদের কিছুনিয়ম মেনে চলা উচিত।  

সেহেরিঃ

গর্ভবতী মায়ের বুকজ্বলা বা গ্যাসের সমস্যা থাকলে যে খাবারে গ্যাস ফর্ম হয় বা বুক জ্বালা করে সে সকল খাবারগুলো যেমন তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার সেহরিতে  অবশ্য বর্জনীয়। 

ক্যালরি  আঁশযুক্ত খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। আম, কলা ইত্যাদি ফল সেহরির খাদ্য তালিকায় রাখবেন। ফল ও আঁশযুক্তখাবার ধীরগতিতে পরিপাক হয়, যে কারণে ক্ষুধা কম লাগে।

পানিশূন্যতা  শরীরে লবণের পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রবণতা এড়াতে পানি  তরল খাবার বেশি গ্রহণ করতে হবে। সেহরি না খেয়ে রোজা রাখবেন না।

ইফতারঃ

ভাজা পোড়া খাবার পরিহার করে ইফতারে খেজুর, ফলের রস এবং  চিঁড়াদই খেতে পারেন। এতে করে রক্তে সুগারের মাত্রা ঠিক থাকবে। খেজুরে অনেক বেশি ক্যালরি ও খাদ্যগুণ বিদ্যমান। এছাড়া আম, কাঁঠাল, তরমুজ, বাঙ্গি, কলা, ডাব, নারিকেল ইত্যাদি ফল পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। এছাড়া স্যুপ ও তাজা ফল বা সবজি দিয়ে তৈরি সালাদ খাওয়া যেতে পারে।

দুধ  দুধের তৈরি খাবার যেমন দই, লাচ্ছি, মাঠা ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখবেন। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়ার প্রবণতা কমায়।

গর্ভাবস্থায় বাইরের ইফতার এড়িয়ে চলুন। বাসায় তৈরি হালকা খাবার খান।

রাতের খাবারঃ

ইফতারের পর অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করুন কিন্তু বারবার খান। নানান জাতের ডাল, মাছ, মাংস ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাবারের সঙ্গে সবজির সুষম সমন্বয়ে রাতের খাবার খেতে পারলে খুব ভালো।

ঢেকিছাঁটা লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি খাওয়া ভালো। গুরুপাক (রিচ ফুড), অতিরিক্ত তেল, ঝাল মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

অনেকেই আছেন যারা ইফতার করে আর রাতের খাবার খেতে চান না। গর্ভাবস্থায় এটা একদমই করবেন না। মনে রাখুন, আপনার গর্ভের শিশুটি আপনার মাধ্যমে পুষ্টি পাচ্ছে। তাই সময় মতো রাতের খাবার খেয়ে নিন।

আসুন জেনে নেই গর্ভবতীর রোজা রাখার ক্ষেত্রেখাদ্যাভ্যাসে যেসব বিষয় মেনে চলা জরুরী-

১. চা ও কফি এড়িয়ে চলবেন।

২. কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলতে হবে। শাকসবজি, পানি, ফলমূল সঠিক পরিমাণে খেলে এটা এড়ানো সম্ভব।  তবে, বেশি অসুবিধা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সিরাপ খাওয়া যেতে পারে।

৩. সারাদিন পানি না খাওয়ার ফলে প্রস্রাবে হালকা জ্বালা হতে পারে। ইফতারের পর ঘন ঘন পানি, শরবত ও ফলের রস পান করে তা পূরণ করতে হবে।

৪. সেহেরি, ইফতার এবং রাতের খাবারের প্রতি মনযোগী হতে হবে।

Leave a Reply

×

Cart